|

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী বিরাট মাইফলক

প্রকাশিতঃ 12:39 am | October 02, 2018

প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীঃ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিরাট মাইফলক স্থাপন করেছেন। শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক দর্শন হচ্ছে পেটে-ভাতের রাজনীতির অর্থনীতি। এটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূল দর্শনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। আমার এখনো মনে আছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির একটি সভায় তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনটি বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, যখন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ডিনার করতেন তখন জাতির জনক মানুষের দুঃখ, দারিদ্র্য দূর করতে নানাবিধ পরিকল্পনার কথা বলতেন।

শেখ হাসিনা টানা দুই মেয়াদ রাষ্ট্র পরিচালনায় আছেন। এই প্রায় ১০ বছরে দেশের যে অগ্রগতি হয়েছে তা কেবল তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বগুণে সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মহাসড়কে যাত্রা করেছে। আমি মাঝেমধ্যে অবাক হয়ে ভাবি বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে যে অর্থনৈতিক দর্শন দিয়ে গেছেন। তিন হাজারের বেশি খাতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা করেন। অথচ সেগুলো মোশতাক-জিয়া গং বন্ধ করে দেওয়ায় দেশ পিছিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেন, তিনি আবার বঙ্গবন্ধুর দর্শন বাস্তবায়নে হাত দেন। তখন তিনি সঙ্গে একজন যোগ্য অর্থমন্ত্রী পেয়েছিলেন।

বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, তাতে প্রতিটি মানুষের কর্মস্পৃহা ও কর্মোদ্যম বেড়ে যাচ্ছে। তিনি মানুষের মৌলিক অধিকার যা সংবিধানে রয়েছে তা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। এটি অব্যাহত রাখতে হলে আরও একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সরকার গঠনে ভোট দিতে হবে। তবে এর বিরোধিতায় শুধু যে বিএনপি-জামায়াত চক্র সক্রিয় তা নয়, একদল বাম তারা তলে তলে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করেই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এই নব্য রাজাকারদের থেকে আওয়ামী লীগকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বামরা গাছেরটাও খায় তলারটাও কুড়ায়।

একজন বামের কথা বলি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অর্থনীতিতে পুরস্কার নিয়েছেন। এখন আবার জাতীয় দৈনিকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডামূলক বক্তব্য লিখছেন। এদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আমি আরেকজন অর্থনীতির শিক্ষকের কথা বলতে পারি যিনি নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সারাক্ষণ বলে চলেন, প্রফেসর, প্রভাষক আর কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাই ভাই। অথচ উনি অবৈধভাবে আট বছর চাকরি করে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০ বছরের বেনিফিট আদায়ে সক্রিয় আছেন।

আমরা জানি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনোদিন জনগণের সেবায় পিছপা হননি। তিনি কর্মে বিশ্বাসী। তাই তো ১০টি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি থাকবে, যাতে কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও ও খুলনায় তিনটি বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকল্প আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গ্রহণ করা হয়। আবার কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি, মেঘনা, কাঁচপুর হয়ে রেললাইন নির্মাণ করলে ঢাকার ওপর চাপ কমবে বলে আমি বিশ^াস করি। কেননা, অনেকেই তখন ঢাকার বাইরে থেকে এসে অফিস করতে পারবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দর্শনের কারণেই গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবশ্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বদলে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কাজ করে চলেছে। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বাংলাদেশ যদিও রোল মডেল। তবুও সমন্বিত উপায়ে কাজ করার জন্য আরো প্রয়াস দরকার। পিকেএসএফ কিছুটা কাজ করছে। যদিও এনজিও সেক্টরে ফান্ড হচ্ছে বর্তমানে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে পিকেএসএফের ফান্ড হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকিং সেক্টরে ড. আতিউর রহমানের চলে যাওয়ার ফলে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে সুচিন্তিত পরিকল্পনাগুলো ছিল ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে আমি বলব তা আজ কিছুটা হলেও পিছু হটেছে। এই সেক্টর এখন আমলা-নির্ভর হওয়ায় ব্যাংক-ব্যবস্থাপনায় কিছুটা দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন থাকবে, ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নয়নে যাতে তিনটি কাজ করা হয়।

প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দর্শনের সঙ্গে বাস্তবেই সহমত পোষণ করে এমন কেউ যেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের চারটি ডেপুটি গভর্নর পদের মধ্যে একটি পদ খালি আছে। সেই পদে বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ে দক্ষ এবং এমডি পর্যায়ে ন্যূনপক্ষে পাঁচ বছর কোনোরকম কালিমা ছাড়া কাজ করেছেন এমন কাউকে ডেপুটি গভর্নর নিযুক্ত করা। তৃতীয়ত, আমার আবেদন হচ্ছে একই ব্যক্তি যেন একাধিক ব্যাংকের মালিকানা না পায়। আর একই পরিবার থেকে এক মেয়াদের বেশি দুজন সদস্য যেন না থাকতে পারে। সে জন্য ব্যাংকিং আইন সংশোধন করতে হবে।

এটা মানতেই হবে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বগুণে জাতীয় পর্যায়ে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এটিকে ধরে রাখতে হলে কর্মসংস্থানকেও প্রাধান্য দিতে হবে। বিবিএসের হিসাবে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত বেকারের হার বেশি। এই ধারা থেকে বের হয়ে আসতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সব উদ্যোগ নিয়েছেন সেগুলোকে কার্যকরী করতে তাঁকে আরও একবার ভোট দিয়ে জনকল্যাণের সুযোগ করে দেওয়া দরকার।

প্রধানমন্ত্রী যে দৃষ্টি নিয়ে এদেশের প্রতিটি মানুষের মানবিক মর্যাদা বাড়াতে কাজ করছেন, তার বিপরীতে বিএনপি-জামায়াত তো ষড়যন্ত্র করছেই, তার সঙ্গে সঙ্গে উগ্র বামপন্থিরাও সক্রিয়। অনেক ক্ষেত্রেই বেহুলা-লখিন্দরের বাসর ঘরের ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে এই অতি বামরা ঢুকে যাচ্ছে। অথচ প্রকৃত আওয়ামী লীগাররা অনেক ক্ষেত্রে দেশকে ভালোবেসে, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবেসে নানা অপমান-অত্যাচার সহ্য করেছে। আমি বলব, শেখ হাসিনা দেশের কল্যাণে যে কাজ করছেন তা প্রকারান্তরে তাদেরই বিজয়। আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অচিরেই কর্মঠ ও ত্যাগী আওয়ামী লীগারদের তার অর্থনৈতিক দর্শনের বাস্তবায়নে আরো সুযোগ দিবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক দর্শন অনুযায়ী সরবরাহজনিত ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নের ফলে গ্রামীণ উদ্যোক্তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। আমি যখন নার্সিয়ান বিশ^বিদ্যালয়ে উদ্যোক্তা ব্যবস্থাপনার ওপর প্রথম পোস্ট ডক্টরেট করতে যাই তখন ডিন এবং সুপারভাইজার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, কি কারণে তুমি উদ্যোক্তা ব্যবস্থাপনার ওপর গবেষণা করতে চাও। আমি সোজাসাপ্টা উত্তর দিয়েছিলাম, আমার নেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে আমি উদ্দীপ্ত হয়ে উদ্যোক্তা ব্যবস্থাপনার ওপর কাজ করতে এসেছি। আমি পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রি করার পর দেশে যখনই এটি প্রচলন করতে গেছি তখনই বিভিন্নজন নানা ধরনের কান কথা দিয়ে এ কাজটি বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সে অর্থনীতির ওপর মাস্টার্স ডিগ্রিতে ছাত্র পাঠায় না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য তহবিল গঠন করেছেন। পত্র-পত্রিকায় যেভাবে বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে সেখানে স্কিল এনাজমেন্টের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার বিভিন্নমুখী প্রকল্প রয়েছে।

অথচ যারা এসব বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে বিভিন্ন লবিংয়ের মাধ্যমে তাদের উদ্যোক্তা শিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর কোনো ধারণাই নেই। আসলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একমাত্র পারেন তাঁর স্বপ্নের উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে সুবিধা বাড়িয়ে দিয়ে দেশে কর্মোপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করতে। পারেন সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সহায়তা করতে।

একই সঙ্গে বলব বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও তেমন কোনো ভালো কাজ করছে না। এখন সময় এসেছে এ প্রতিষ্ঠানটির পুরো কাঠামো ঢেলে সাজানোর। কেননা এটিতে জামায়াত-বিএনপির লোকেরা বহুদিন ধরে পদ-পদবি দখল করে আছে।

আবার নির্বাচনে বিজয়ী হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ দেশকে নিয়ে যাবেন উন্নয়ন থেকে আরো উন্নততর দেশে। আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ভিশন-২০২১ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হোক। তাঁর কর্তব্যগুণেই আজ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বিপণন ব্যবস্থায় একটি সমতার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। নারীর কর্মসংস্থান বেড়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। ব্যাংকিং সেক্টরে ৬ শতাংশ সুদের হার আমানতের ওপর করার প্রয়াস চলছে। এটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর বিশালত্বকে তুলে ধরতে হবে। আমি মনে করি গত সাড়ে ৯ বছরের অধিককালে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হয়েছে তার প্রামাণ্যচিত্র শিল্পীদের মাধ্যমে তৈরি করে বিভিন্ন টিভি, রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। আবার নতুন ভোটাররা যারা ভোট দেবেন তারা প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের যাতে সুযোগ পায় তার জন্য একটি বিশেষ সেল আওয়ামী লীগ থেকে গঠন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বীরোচিত নেতৃত্বগুণে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। সর্বজনীন কর্মসংস্থানের প্রয়াস নিয়েছেন। এছাড়া দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ যাতে বিদ্যুতে সাফল্য অর্জিত হয়, উৎপাদন ব্যবস্থায় লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটে, প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যাভাব না থাকে- তার জন্য প্রধানমন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। তাইতো বলব, জয়তু শেখ হাসিনা। আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হোন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনার সাফল্য, আপনার কর্মোদ্যমকে শ্রদ্ধা করি। আপনার মধ্যে মাতৃত্বসুলভ যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আছে তার পরিস্ফুটন অব্যাহত থাকুক। ছড়িয়ে পড়–ক আলোর দীপ্ত মশালে। দেশ ও জাতির কল্যাণে আপনার সীমাহীন পরিশ্রম সার্থক হোক। দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হবে- আমি এটা প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে ঘরের শত্রু বিভীষণকে চিহ্নিত করে নির্বাচনের আগেই তাদেরকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করছি। সবশেষে বলব, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মানেই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।

প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী: শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ

সুত্রঃ ঢাকা টাইমস