|

পরিবারে দীনি পরিবেশ গড়ে তোলার উপায়

প্রকাশিতঃ 4:09 pm | January 08, 2020

অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না কিভাবে দাওয়াতের কাজ শুরু করবেন। ফলে অনেক কিছু করার ইচ্ছে থাকলেও করা হয়ে ওঠে না। আমরা এখানে দাওয়াতের প্রায়োগিক কিছু পন্থা নিয়ে আলোচনা করছি। উপরে দাওয়াতের যে পর্যায়ক্রম উল্লেখ করেছি, তার আলোকে আমরা এগোতে পারি। প্রথমে পরিবার, তারপর নিকটাত্মীয়, তারপর সমাজ-রাষ্ট্র।

পরিবারে দাওয়াহ

১. পারিবারিক গ্রন্থাগার : পরিবারে সকল সদস্যদের বয়স বিবেচনা করে সে অনুযায়ী বাড়িতে বিভিন্ন ইসলামিক বই-পুস্তক, ইসলামি পত্র-পত্রিকা এবং ইসলামিক বক্তাদের লেকচারের সিডি-ভিসিডির একটি সংগ্রহশালা গড়ে তুলুন। আপনার আত্মীয় স্বজনদের বলুন, তারা আপনার বাসা থেকে সেগুলো নিয়ে বাসায় পড়তে।

২. পারিবারিক তালিম : পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে কেউ একজন কোন একটি বই থেকে সকলের উদ্দেশ্যে পড়ুন। ইমাম বুখারির ‘আদাবুল মুফরাদ’ অথবা ইমাম নববির ‘রিয়াদুস সালিহিন’ থেকে তালিম করা যেতে পারে। ফজরের পর হলে ভালো হয়। প্রথম প্রথম কেউ বসতে না চাইলে একাই চালিয়ে যান। একেবারে নিয়ম বানিয়ে নিন। পরিবারে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এটা বেশ ইফেক্টিভ।

৩. ইসলাহি মাহফিল : পারিবারিকভাবে মাঝে মাঝে ইসলাহি মাহফিলের আয়োজন করা যেতে পারে। প্রাজ্ঞ কোন আলিম আলোচনা করবেন। মহিলারা পর্দার সাথে আলোচনা শুনবেন। প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থা থাকতে পারে।

৪. ওয়াল পোস্টার : বাড়িতে দেয়ালে দেয়ালে ইসলামিক পেইন্ট, ক্যালিগ্রাফি, গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-হাদিস বা সালাফদের বাণী টানিয়ে রাখুন। এটা একদিকে আপনার ঘরের পরিবেশকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তোলবে, অন্যদিকে একটা দীনি আবহ তৈরি করবে। আপনার সন্তানদের ওপরও এটা বিশেষভাবে প্রভাব ফেলবে।

৫. পারিবারিক প্রতিযোগিতা : পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানা রকম ইসলামিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করুন, যা তাদেরকে ইসলাম মেনে চলার ক্ষেত্রে আরো বেশি অনুপ্রেরণা দেবে। ছোটখাট পুরস্কারও থাকতে পারে। স্মৃতিবহ কিছু হলে ভালো হয়।

৬. সমাজ কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ : পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমাজ কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করুন। শীতার্ত, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ফরজ ও নফল দান-সাদাকা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া ইত্যাদি। এতে করে তারাও উৎসাহিত হবে এসব কাজে।