|

ময়মনসিংহ বাসীর ত্রাণকর্তা স্রষ্টার আশীর্বাদ ইকরামুল হক টিটু

প্রকাশিতঃ 1:02 am | January 27, 2020

মোঃ মাহমুদুল হাসান সবুজ, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ বাসীর ত্রাণ কর্তা, স্রষ্টার আশীর্বাদ ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু।

ইকরামুল হক টিটু কেনো ময়মনসিংহ বাসীর ইশ্বরের আশীর্বাদ তা জানার আগে ময়মনসিংহের শহরের অল্প ইতিহাস জেনে আসি।

অবিভক্ত ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ জেলা ময়মনসিংহের রয়েছে নিজস্ব গৌরব, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি,ইতিহাস, শহরের বুকচিরে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে হাজার বছর ধরে বহমান পুরাতন ব্রহ্মপুত্র আপন মনে ময়মনসিংহ কে সাজিয়েছে স্বর্গের ন্যায়।ইতিহাস, ঐতিহ্যে, সাংস্কৃতিক অনন্য মৈমনসিংহ গীতিকা, মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদীনা, চন্দ্রাবতী, কবিকঙ্ক, দীনেশচন্দ্র সেন, মুক্তাগাছার মন্ডা বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত।

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, থেকে শুরু করে কানাহরি দত্ত, মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি;উপমহাদেশের প্রথম ‌র‌্যাংলার আনন্দ মোহন বসু, করম শাহ,শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীন,বাংলাদেশের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি;শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ;আবদুল জব্বার, ভাষা শহীদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, সহ অসংখ্য কীর্তিমানের জন্ম এই ময়মনসিংহে।

সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে স্থানীয় বিদ্রোহ দমনের জন্য এই জেলা গঠন করা হয়। ১৭৮৭ সালের ১ লা মে তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয় এই জেলা! আদি ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থান একে একে সিলেট, ঢাকা, রংপুর ও পাবনা জেলার অংশ হয়ে পড়ে।

১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে জেলা সদরের পত্তন হয়! ময়মনসিংহ শহর হয় ১৮১১ সালে । ১৮৮৬ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ ও ১৮৮৭ সালে জেলা বোর্ড গঠন করা হয় এবং ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ শহরের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা করার লক্ষ্যে পৌরসভা গঠিত হয়। অথচ ১৫০ বছরের এই পৌরসভার সময়ের সাথে বয়স বাড়লেও হয় নি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন। যেখানে সিলেট একসময় ময়মনসিংহের অংশ থাকলেও উন্নয়নের দিকে ময়মনসিংহের অনেক আগে বেড়েছে তারা! ময়মনসিংহের অনেক আগেই বিভাগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে! অথচ ঐতিহ্যের এই নগরী সঠিক নেতৃত্বের অভাবে যোজন যোজন পিছিয়ে ছিলো যুগের পর যুগ।

যখন একের পর এক অঘটনে দূষিত হতে থাকে প্রাণের নগরী ময়মনসিংহ, সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি, ঠেকবাঁজি’তে হরহামেশাই প্রাণ হারাতো মানুষ সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ পৌঁছায় চরম সংকটে।

সাধারণ মানুষ তখন তার প্রভুর নিকট প্রাণের আকুতি দিতে থাকলো, কোন এক সন্তান হারা মায়ের বুকফাঁটা আর্তনাদে আঁচল পাতা দোয়ার রহমতে। পিছিয়ে পড়া মানুষ ডুবতে থাকা নগরীর ভাগ্য বদলাতে। আল্লাহর রহমত সরূপ উদিত হয় একজন মানুষের।

যার ব্যাক্তিত্ব পর্বত-শৃঙ্গের মতোই মহান, ভালোবেসে করে সবাইকে আপন, নিজ গুণে-গুণান্বিত কঠোর পরিশ্রমী,অত্যন্ত সৎ,নিষ্ঠাবান, আত্মত্যাগী,অন্যায়ে আপোষহীন। যিনি নেতৃত্বে আসার সাথে সাথেই আমূল-পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রাণ ফিরে পেল ময়মনসিংহ নগরী। এ যেন তীব্র শীতের রাতের শেষে একমুঠো সোনালী রৌদ্র।

সেই ১৮৮৪ সালে রাস্তায় প্রথম কেরোসিনের বাতি জ্বালানো হয় ময়মনসিংহ শহরে। কালের বিবর্তনে ১৩০ বছর অতিক্রম করলেও এগোই নি,অথচ মাত্র ১২-১৩ বছর আগেও দেখতাম, রাস্তায় ঠিক করে বাতি জ্বলতো না,শহরের সব রাস্তা-ঘাটের ছিল বেহাল দশা, অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, মনে হতো যুদ্ধবিধ্বস্ত কোন শহর, নাগরিক বঞ্চিত হতো তার নাগরিক অধিকার থেকে! পৌরসভা ছিলো শুধু নামে।

এইতো মাত্র দশক আগে প্রকৃতির শূন্যস্থান পূরণে ময়মনসিংহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হয়ে আত্মপ্রকাশ হলো একজন ইকরামুল হক টিটু।

আবির্ভাবের সাথে সাথেই পরশ পাথরের ন্যায় বদলাতে লাগালো মহানগরীর চেহারা। রাখাল রাজার মতো পুরো নগরের প্রত্যেকটা কোনায়, কোনায় চষে বেড়িয়ে, সকল সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শতভাগ সফল। সেই থেকে শুরু হলো উন্নয়নের গাঁথা যা আজো অবিরাম! ধীরে ধীরে উদিত হতে থাকলো তার অসামান্য প্রতিভা। সেই ভারপ্রাপ্ত মেয়র থেকে জনতার চোখের নয়নের মণি হয়ে ওঠা। তারপর নির্বাচিত হলেন মেয়র,সেই সাথেই নিজ দক্ষতায় পাল্টে দিলেন ময়মনসিংহের চেহারা! হয়ে উঠলেন ময়মনসিংহ বাসীর আস্থার প্রতীক।

স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মুজিব আদর্শের কর্মী হিসেবে সর্বদাই নিজেকে মেলে ধরেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে! ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি হয়ে রাজপথকে নিরাপদ রেখে, আলোর পথ দেখাচ্ছেন।

জাতির পিতার স্বপ্ন কে বাস্তবায়নে ,নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। জরাজীর্ণ ব্রিটিশ আমলের পৌরসভা থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম, প্রচেষ্টায়, পৌরসভাকে বানালেন সিটি কর্পোরেশন। ময়মনসিংহ বাসীর প্রাণের দাবী বিভাগ বাস্তবায়নে।

অপরিসীম ভূমিকা রেখে নিজেকে নিয়ে গিলেন অনন্য উচ্চতায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া টিটু নিজ গুণে সাফল্যের চূড়ান্ত শেখরে।

জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার একজন অত্যন্ত বিশ্বস্ত পাত্র হয়ে উঠলেন খুব অল্প সময়েই! দেশরত্ন রত্ন চিনতে ভুল করলেন না। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রথম প্রশাসকের দায়িত্ব দিলেন তাকেই।

সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আবেগের জায়গা ময়মনসিংহে। মহানগরীর প্রথম নগর পিতা অর্থাৎ ইতিহাসের প্রথম মেয়র হিসেবে শেখ হাসিনার একমাত্র ভরসা ময়মনসিংহের আশার বাতিঘর জননেতা ইকরামুল হক টিটু।

চোখ বন্ধ করে বলতে পারেন বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে শ্রেষ্ঠ এবং অতুলনীয় ব্যাক্তিত্বের অধিকারী ইকরামুল হক টিটু ভাই। নিজ গুণে মহিমান্বিত হয়ে আজ বাংলাদেশের বড় বড় মহানগরীর নগর পিতাদের রোল মডেলের পরিনত হয়েছেন ময়মনসিংহের নগর পিতা গর্বের ধন ইকরামুল হক টিটু।

ইকরামুল হক টিটু স্বপ্ন দেখান না স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তরিত করেন। ধীরে ধীরে নেতা থেকে জনতার জননেতায় পরিণতি হয়ে ভালোবাসার শহর ময়মনসিংহের দক্ষ নাবিক বনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ হয়ে সঠিক পথে পরিচালনায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে।